বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) হল বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের সিকিউরিটিজ বাজার (স্টক এক্সচেঞ্জ) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে। বিএসইসি-এর মূল লক্ষ্য হল বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা, পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

প্রতিষ্ঠা ও গঠন:

  • প্রতিষ্ঠা সাল: ৮ই জুন, ১৯৯৩
  • প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৯৩
  • ঠিকানাঃ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, সিকিউরিটিজ কমিশন ভবন, ই-৬/সি আগারগাঁও, শের-ই-বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকা, ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশ।
  • ওয়েবসাইটঃ www.sec.gov.bd

বিএসইসি-এর প্রধান কার্যাবলি:

  • স্টক এক্সচেঞ্জ বা অন্য কোনও সিকিউরিটিজ বাজারের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা।
  • সিকিউরিটিজ মার্কেটে স্টক-ব্রোকার, সাব-ব্রোকার, শেয়ার ট্রান্সফার এজেন্ট, মার্চেন্ট ব্যাংকার এবং ইস্যুর ম্যানেজার, ট্রাস্ট ডিডের ট্রাস্টি, ইস্যুর রেজিস্ট্রার, আন্ডার রাইটার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবসা নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ করা।
  • সব ধরনের মিউচুয়াল ফান্ড সহ যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পের নিবন্ধন, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ।
  • সিকিউরিটিজ বাজারে সমস্ত অনুমোদিত স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা।
  • যে কোনও সিকিউরিটিজ মার্কেটে সিকিউরিটিজ ট্রেডিং সম্পর্কিত জালিয়াতি এবং অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন নিষিদ্ধ করা।
  • বিনিয়োগকারীদের শিক্ষার প্রচার করা এবং সিকিউরিটিজ বাজারের মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
  • সিকিউরিটিজ-এ অভ্যন্তরীণ লেনদেন নিষিদ্ধ করা।
  • উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শেয়ার অধিগ্রহণ এবং কোম্পানিগুলির অধিগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা।
  • সিকিউরিটিজ বাজারে যে কোনও ইস্যুকারী বা সিকিউরিটিজ ডিলার, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মধ্যস্থতাকারী এবং যে কোনও স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত ও পরিদর্শন, অনুসন্ধান এবং নিরীক্ষা করা।
  • গবেষণা পরিচালনা ও তথ্য প্রকাশ করা।

বিএসইসি-এর গঠন:

বিএসইসি একটি স্বাধীন সংস্থা যা একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন কমিশনারকে নিয়ে গঠিত। যারা বাংলাদেশ সরকার কতৃক পূর্ণ সময়ের জন্য নিযুক্ত হন এবং চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করেন। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, আইন, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় প্রশাসনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ। কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত। বিএসইসি ২২শে ডিসেম্বর ২০১৩ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশনের (আইওএসসিও) 'এ' বিভাগের সদস্য।

বিএসইসি-এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান:

১.   ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)

২.   চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)

৩.  ব্রোকারেজ হাউসসমূহ

৪.   মার্চেন্ট ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন

৫.  মিউচুয়াল ফান্ড ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট

কোম্পানিসমূহ বিএসইসি-এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ:

  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: বাজারের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা।
  • বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম: বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন।
  • বাজার পর্যবেক্ষন: বাজারের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষন করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

চ্যালেঞ্জ:

  • বাজারে অনিয়ম ও জালিয়াতি রোধ।
  • বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি।
  • পুঁজিবাজারের গভীরতা ও সম্প্রসারণ।

বিএসইসি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।